বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামে একটি শিয়া মসজিদে ঢুকে অজ্ঞাতনামা কিছু লোক গুলি চালালে একজন মারা গেছে।
নিহত ব্যাক্তি মোয়াজ্জেম হোসেন ঐ মসজিদের মুয়াজ্জিন।
- মসজিদের ইমাম সহ আরো তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে বগুড়ার জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান হাবিব বিবিসিকে বলেন, হরিপুর গ্রামের ঐ মসজিদে সন্ধ্যার নামাজ শেষ করার মুহূর্তে মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে দু-তিন জন যুবক গুলি চালালে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়।
শিবগঞ্জের ওসি জানান, হামলার সময় মসজিদের ভেতর ১৬/১৭ জনের মত নামাজি ছিলেন।
মসজিদের পরিচালক আবু জাফর হরিপুর থেকে টেলিফোনে বিবিসির কাদির কল্লোলকে বলেন, ঢাকায় হোসেনি দালানে হামলার পর থেকে তাদেরকে সাবধান থাকতে বলা হয়েছিল।
আবু জাফর জানান, বেশ কিছু শিয়া পরিবার হরিপুরে কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করছে। তবে গ্রামে শিয়া মসজিদটি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্টা করা হয়।
মি জাফর বলেন, তাদের সাথে স্থানীয় সুন্নি সম্প্রদায়ের কখনো কোন সমস্যা হয়নি। শুধু স্থানীয় কওমি মাদ্রাসার রোকজন মাঝেমধ্যে তাদের নামাজ পড়ার ধরণ নিয়ে কথা ওঠাতো বলে তিনি জানান।
তবে কে বা কারা এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে, সে সম্পর্কে পুলিশ বা ঐ মসজিদ কর্তৃপক্ষও এখনও কিছু বলতে পারছে না।
বগুড়া পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা হরিপুরে গেছেন। সন্দেহভাজনদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
মসজিদে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বগুড়ায় শিয়া মসজিদে এই হামলার ঘটনা এমন দিনে ঘটলো যেদিন ঢাকায় গতমাসে শিয়াদের প্রধান ধর্মীয় স্থাপনা হোসেনি দালান ইমাম বাড়ায় হামলার সাথে যুক্ত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়।
কিন্তু এভাবে নামাজের সময় মসজিদে ঢুকে গুলি চালানোর ঘটনায় তারা হতভম্ব হয়ে পড়েছেন।
